Tuesday, October 27, 2020
রাজশাহী

দুর্গাপুরে গোপনে নারীদের ভিডিও ধারণ!

484views

দুর্গাপুরে গোপনে নারীদের ভিডিও ধারণ!

গোপনে নারীদের ভিডিও ধারণদুর্গাপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি গ্রামের দেড়শ পরিবারের নারীদের গোপনে অশ্লীল ভিডিও ধারণকারী যুবক রনিকে আটক করেছে গ্রামবাসী। গ্রামবাসি তাকে আটক করলেও বিচারের আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপন করছেন এক পৌর কাউন্সিলর। এই ঘটনায় গ্রামবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন মূহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌরসভার চৌপুকুরিয়া সরদার পাড়া গ্রামে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, দুর্গাপুর পৌরসভার চৌপুকুরিয়া সরদার পাড়া গ্রামের সমসের আলীর কলেজপড়া পুত্র রনি (২৩) প্রায় তিন বছর পূর্ব থেকে একই গ্রামের প্রতিটি পরিবারের সকল বয়সী নারীদের গোপনে ভিডিও ধারণ ও ছবি তুলে ছবিতে অশ্লীল ছবি সংযুক্ত করে। অভিযুক্ত যুবক রনির এই ভিডিও ও অশ্লীল ছবির হাত থেকে রেহাই পায়নি নিজ পরিবারের নারীরাও। এমনকি প্রতিবেশী এক মেয়ের সাথে নিজের অশ্লীলতার ভিডিওটিও ধারন করে রেখেছে নিজের মোবাইল ফোনের মোমোরিতে।

গত ১০ আগষ্ট শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে চৌপুকুরিয়া গ্রামের ব্রীজের কাছে রুস্তমের দোকানের পাশের্^ কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে খোঁস গল্প করতে থাকে যুবক রনি। গল্পের একপর্যায়ে রনির বন্ধু একই গ্রামের সান্টুর পুত্র সাগর রনির মোবাইলটি নিয়ে গান শোনার জন্য ফোনের ফোল্ডারে প্রবেশ করতেই তার প্রতিবেশী আত্মীয় এক মেয়ের অশ্লীল দৃশ্য দেখতে পায় বন্ধু সাগর। কৌশলে ফোনের shareit এর মাধ্যমে ওই ফোল্ডারের সকল ভিডিও ছবি নিজের ফোনে পার করে নেয় সাগর। সাগর ফোনটি রনির হাতে দিয়ে একটু দূরে ফাঁকা জায়গায় গিয়ে একে একে ভিডিও ও ছবি দেখতেই তার নিজের পরিবারের নারীদেরও অশ্লীল ভিডিও ও তৈরীকৃত নগ্ন ছবি দেখতে পায়। ধারনকৃত ভিডিও ও ছবির পরিবারের পুরুষদের বিষয়টি জানায় সাগর। এর কিছু সময় পরেই গ্রামের এরশাদ আলী, আনোয়ার হোসেন, নজরুল ইসলাম সহ ৫/৭জন রনিকে মোবাইল ফোনসহ ধরে মোবাইলটি কেঁড়ে নেয়। রনির সাথে মোবাইল নিয়ে ধস্তাধস্তি হয়। এসময় সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর সেলিম রেজা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। উপস্থিত গ্রামবাসী পৌর কাউন্সিলরের কাছে যুবক রনির বিচারের দাবী করে। কাউন্সিলর সেলিম রেজা বিচার করা হবে মর্মে গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করেন। তিনি গ্রামবাসীদের জানান ১১ আগষ্ট শনিবার সন্ধ্যায় তার বিচার করা হবে। শনিবার সকালে স্থানীয় প্রভাবশালী দুই ব্যক্তির তাকে বাঁচার কৌশলে অভিযুক্ত যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আজ কাল পরশু করতে করতে আজ মঙ্গলবার অবধি গড়ায় বিচারের দিন। এনিয়ে ওই গ্রামের লোকজনের মাঝে উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম বলেন, মঙ্গলবার শেষ দিনধার্য্য করেছে কাউন্সিলর। যদি মঙ্গলবার বিচার না করা হয় তাহলে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এরশাদ আলী বলেন, এইগ্রামের প্রতিটি পরিবারের সকল বয়সী নারীদের ভিডিও ধারণ করে অশ্লীল দৃশ্য ও নগ্ন ছবি তৈরী করেই শেষ হয় নি। এর হাত থেকে বাদ যায়নি এই গ্রামের পরিবার গুলোর আত্মীয় স্বজনরাও। এমনকি নিজের পরিবারের ও নিজের অশ্লীলতার ভিডিওটিও ধারন করা আছে তার মোবাইল ফোনের মেমোরিতে। তিনি রনির বিচার দাবি করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর সেলিম রেজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক রনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় বিচার ডাকতে দুইদিন বিলম্ব হয়েছে। তবে মঙ্গলবার বিচারের দিনধার্য্য করা আছে।

দুর্গাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আঃ মোতালেব বলেন,এ বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ দেয়নি কেউ। যদি অভিযোগ পাই তাহলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Response