Monday, October 26, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

তৃণমূলের ভরসা আসাদ

381views

তৃণমূলের ভরসা আসাদ

কামাল হোসেন: হাসিব-জামিল মোহনপুরের বাসিন্দা, আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী এমপির সমর্থকের সাথে তর্ক করেছিলেন। ফলাফল কারাগারে ঈদ। অন্ধ আওয়ামী লীগের পুঠিয়ার মিঠু, এমপির কর্মকান্ডের সমালোচনা করেছিলেন, তার ভক্তরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। ছাত্রলীগের কর্মী তানোরের বাবু এমপির সমালোচনা করেছিলেন। এজন্য তাকে ডেকে নিয়ে এমপি নিজে তার পেটে পা তুলে ভূড়ি বের করে দিতে চেয়েছিলেন। আরেকজন কর্মীকে হাটের মধ্যে চড় মেরেছিলেন। ১৫আগষ্ট বিএনপির নেতাকে দলে যোগ দেইয়ে মিষ্টি বিতরণ করেছেন। ২৪ আগষ্ট আইভি রহমানের মৃত্যূবার্ষিকীতে নাচগানের আনন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফুর্তি করেছেন।

একজন প্রবীণ আওয়ামী লীগার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলছিলেন, “শেখ হাসিনা ক্ষমতায়, কর্মীরা আদালতের বারান্দায়।” প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী কে আদালতে হাজিরা দিতে হয় এমপি গণের সমর্থক কাউয়ালীগের মামলায়। সব এলাকার চিত্র এমনটি নয়, তবে কমও নয়। নিরাপত্তাহীন, একরোখা, অভিমানী, অহংকারী এসব শেখ হাসিনার তৃণমূলের কর্মীদের এখন আস্থার জায়গা রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। হাসপাতালে পড়ে থাকা দলীয় কর্মীর ভরসা আসাদ। শহরে এসে বেকায়দায় পড়েছে, ফোন করো আসাদকে। ডাক্তার দেখিয়ে টাকা শেষ, ভরসা কে? আসাদ। এই আসাদই আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূলের অবহেলিত নেতা কর্মীদের ভরসাস্থল। শুধু দলীয় কর্মী সমর্থকরাই নয়, গ্রাম তেকে শহরে এসে বিপদে পড়া সাধারণ মানুষও প্রয়োজনে ছুটে যান আসাদের কাছে। সহযোগিতাও পান তার কাছে গিয়ে। আর এই আওয়ামীলীগ নেতা আসাদকে কেউ আবার ব্যঙ্গ করে বলছেন নাটের গুরু। বটেই।

৭৫ পরবর্তী দূঃসময়ে ওয়ার্ড ছাত্রলীগ থেকে যাত্রা শুরু করে,কলেজের নেতৃত্ব দেয়া, মহানগর ছাত্রলীগের দু বার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা আসাদ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে জেল খেটেছেন প্রায় তিন মাস। জেলা যুবলীগকে সংগঠিত করেছেন, সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ছিলেন দূবার করে। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, পরে জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। বাংলাদেশের একমাত্র কমিটি যেখানে ৪৩জন সাবেক ছাত্রনেতা রয়েছে। নেত্রীর অনুমতি নিয়ে আসাদ একাজ করেছেন।

জননেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হলে, আর কেউ নয় আসাদই রাজশাহীতে প্রথম ও একমাত্র প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন। আর কোন নেতাই বের হবার সাহস পায়নি। নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে তিনি রাজশাহীতে নানাবিধ কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন।, ২০০১-২০০৮ প্রতিটি আন্দোলন-প্রতিবাদে আসাদ ছিলেন সামনে, ছিলেন সংগঠক। ২০০৮র নির্বাচনে রাজশাহী জেলার নির্বাচন পরিচালনার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন আসাদ।

জানেন কী? কোন মায়ের সন্তান আসাদ? জেনে নিন, তার এক ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরে যে মা বলেছিল, শেখ হাসিনার জন্য আমার ছয় ছেলেকে উৎসর্গ করেছি, একজন চলে গেলে কোন দুঃখ নেই। সেই সময়ে ছাত্রলীগ করেছেন আর এই মায়ের হাতের একমুঠো ভাত খাননি এমন কেউ আছেন? আসাদ নাটের গুরু হবে নাতো, কে হবে ভাই?

জেনে রাখুন, দূ-একবার ব্যতিক্রম ছাড়া আসাদ প্রতিবার নির্বাচন করে দলীয় পদ পেয়েছেন। কোন পদে নির্দিষ্ট সময়ের অধিক থাকেননি। সকল পদ স্বেচ্ছায় ছেড়েছেন নিজের তৈরি করা কর্মীর হাতে। আসাদের আরেক ভাই মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, তিনি সেরা ইউনিটের পুরষ্কার পেয়েছিলেন। তার আরেক ভাই দুই টার্ম ধরে ওয়ার্ড কাউন্সিলর (তিনিও ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন)। আরেক ভাই একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক, যুক্ত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় (১৯৭৩র পরে রাজশাহীতে ২০০৮ এ যে বিজয়ের সূচনা, তার কেন্দ্রবিন্দু এই পাঠাগার)। পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী-নেতা। কারো নামে কোন দূর্নাম নেই, রাহাজানি বা লুটেরার অভিযোগ নেই, ক্ষমতার দাপট দেখানো নেই। অন্যকে সুযোগ দিতে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পারতপক্ষে দুই ভাই একসাথে মঞ্চে ওঠে না।

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের যা কিছু সুন্দর, যা কিছু অর্জন,যা কিছু নতুন, তা আসাদ বা তার পরিবারের হাত দিয়ে এসেছে। রাজশাহীতে আসাদই একমাত্র নেতা, যিনি ৬টি আসনেই সমান ও ব্যাপক জনপ্রিয়। জেলার যেকোন উপজেলার যেকোন গ্রামে পাড়া মহল্লায় আসাদ গেলে কাছে পান অগনিত নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষকে।
আমাদের মত তৃণমূল কর্মীদের নিরাপত্তার জায়গা আসাদ ভাই। ভরসার স্থান, দাঁড়ানোর ঠাই, হতাশায় অনুপ্রেরণা, চেতনার দৃঢ়তা।আমাদের নেতা, আমাদের বন্ধু, আমাদের ভাই; আসুন, আসাদকে সংসদ সদস্য বানাই।

Leave a Response