Thursday, October 22, 2020
খেলার মাঠে

জুটি না পেয়েও হতাশ নন তামিম | রাজশাহী সংবাদ

324views

সঙ্গী না পাওয়ায় হতাশ নন তামিম ইকবাল

স্পোর্টস নিউজ: ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দেও রয়ে গেছে অস্বস্তির একটি কাঁটা। আরও একটি সিরিজ শেষ হয়ে গেল। সমাধান হলো না উদ্বোধনী জুটির সমস্যার। তামিম ইকবাল খুঁজে পেলেন না থিতু একজন সঙ্গী। তামিম নিজে অবশ্য হতাশ নন তাতে। তার বিশ্বাস, দ্রæতই পেয়ে যাবেন যোগ্য একজন সঙ্গী। তামিমের সঙ্গী খোঁজায় সবশেষ ব্যর্থ প্রকল্পের নাম এনামুল হক। অন্যান্যের ব্যর্থতায় এই বছরের শুরুতে দীর্ঘদিন পর দলে ফেরানো হয় এই ব্যাটসম্যানকে। কিন্তু এনামুল পারেননি সুযোগ কাজে লাগাতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন ম্যাচই খেলানোর নিশ্চয়তা দিয়ে তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল নিশ্চিন্তে ব্যাট করার। ব্যর্থ হয়েছেন তবু। জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজেও খেলেছিলেন টানা চার ম্যাচ, পারেননি জায়গা নিজের করে নিতে। ব্যর্থতার এই গল্প বেশ পুরোনো। ২০০৭ সালের ৯ ফেব্রæয়ারি ওয়ানডে অভিষেকের পর দ্রæতই জায়গা নিজের করে নেন তামিম। হয়ে ওঠেন দলের এক নম্বর ওপেনার। সেই থেকে ১৪ জনের সঙ্গে ইনিংস শুরু করার অভিজ্ঞতা আছে তামিমের। অন্য পাশে দীর্ঘদিন টিকতে পারেননি কেউ। একমাত্র ইমরুল কায়েসই যা একটু লম্বা সময় ছিলেন। দুজনে ৫৪ ইনিংস একসঙ্গে ব্যাট করে ১ হাজার ৭১৮ রান তুলেছেন দুজন। সেঞ্চুরি জুটি গড়েছেন ২ বার, ৯ বার ফিফটি জুটি। জুটির গড় ৩১.৮১। কিন্তু ইমরুল পারেননি ধারাবাহিক হতে। পঞ্চাশ তো বহুদূর, ২৫ ইনিংসের বেশি তামিমের সঙ্গে জুটি বাধতে পারেননি আর কেউ। হাজার রান নেই আর কোনো জুটিতে। সৌম্য সরকারের সঙ্গে জুটির শুরুটা ছিল অসাধারণ। সর্বোচ্চ ৩ বার সেঞ্চুরি জুটি গড়েছেন তামিম তার সঙ্গেই। ২৩ ইনিংসে গড় ৩৯.২৬, তামিমের সঙ্গে একাধিকবার গড়া জুটিগুলোর মধ্যে এখনও সেরা গড় এই জুটির। কিন্তু উজ্জ্বল শুরুর পর সৌম্য বিবর্ণ হয়েছেন ক্রমেই। আপাতত সেই জুটি নিকট ভবিষ্যতে আবার দেখার সম্ভাবনা সামান্যই। দারুণ শুরুর পরও পথ হারিয়েছেন এনামুল, জুনায়েদ সিদ্দিকরা। পারেননি শাহরিয়ার নাফিস, নাজিমউদ্দিন, কিংবা এক সময়ের মেহরাব হোসেন জুনিয়র, মোহাম্মদ আশরাফুলরা। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের উজ্জ্বল পথচলায়ও হতাশার অধ্যায় এই ওপেনিং জুটি। সবচেয়ে বেশি অস্থির হওয়ার কথা যায়, সেই তামিমের তাড়া নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শোনালেন সম্ভাব্য সঙ্গীদের নিয়ে আশার কথা। হতাশার নয় (সঙ্গী না পাওয়া) হয়তো তাদের ওরকম কোনো পারফরম্যান্স হচ্ছে না। তবে আমি দলের সঙ্গে থেকে যা দেখি, যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারা সবাই প্রচÐ চেষ্টা করেন। অনুশীলন করেন। নিজেদের উন্নতি করতে যতটা করার দরকার, করার চেষ্টা করেন। কোনোভাবে হচ্ছে না। যে লেভেলে আমরা চাই, সেটা হচ্ছে না। কিন্তু ওদের কাউকে নিয়ে আমরা সংশয় নেই। আমার সঙ্গে যারাই ওপেন করেছে, সবারই সামর্থ্য আছে বাংলাদেশকে সার্ভিস দেওয়ার। আমার কাছে মনে হয়, একটি-দুটি ম্যাচে ভালো ইনিংস খেলতে পারলে সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই ওরা দলে থিতু হতে পারবে। তামিম আশাবাদী হলেও বাস্তবতায় আশার জায়গা কম। বিশেষ করে, বিশ্বকাপের যখন নেই আর এক বছরও, ওপেনিং জুটি বাংলাদেশের বড় এক সমস্যা। তবে তামিমের বিশ্বাস, কেউ না কেউ সমস্যার সমাধান হয়ে আসবেই। বিশ্বকাপের বেশি দিন নেই। তবে আমাদের অনেক খেলা আছে। টিম ম্যানেজমেন্ট যাদের নিয় ভাবছে, আশা করি তাদের যথেষ্ট সময় দেওয়া হবে। পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে আশা করি ওরা ভালো করবে। তারা সবাই প্রতিভাবান। আশা থাকবে সুযোগ পেলে জায়গা পাকা করবে।

Leave a Response