Monday, October 19, 2020
সারাদেশ

জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি, দেশজুড়ে হাজার হাজার ভুয়া ডাক্তার

330views

জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি, দেশজুড়ে হাজার হাজার ভুয়া ডাক্তার

রাজশাহী সংবাদ ডেস্ক: দেশজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার ভুয়া ডাক্তার। জনস্বাস্থ্যের জন্য এসব ভুয়া ডাক্তার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) হিসেবে শুধুমাত্র রাজধানীতেই আড়াই হাজারেরও বেশি ভুয়া ডাক্তার রয়েছে। আর সারাদেশে এ সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি। তবে বাস্তবে দেশজুড়ে বিএমডিসির পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি ভুয়া ডাক্তার রয়েছে। তাছাড়া ভুয়া ডাক্তারের পাশাপাশি জাল ডিগ্রীধারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যাও কম নয়। তারা এমবিবিএস পাসের পর নামের আগে পিছে দেশ-বিদেশের ভুয়া উচ্চতর ডিগ্রি ব্যবহার করে বছরের পর বছর রোগী দেখ হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের ফি। এমন পরিস্থিতিতে ভুয়া ডাক্তার-দালালদের দৌরাত্ম্য, ভুল চিকিৎসা, অবহেলা আর চিকিৎসা বাণিজ্যের নির্মমতায় একের পর এক রোগী মারা যাচ্ছে। গত কয়েক মাসে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অর্ধশতাধিক ভুয়া ডাক্তারকে আটক এবং তাদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে। তবু থামছে না ভুয়া ডাক্তারের দৌরাত্ম্য। বিএমডিসি এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশজুড়েই ভুয়া ডিগ্রিধারী ডাক্তারের দৌরাত্ম্য বর্তমানে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারা বিভিন্ন বাহারি ডিগ্রি সংবলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে নিরীহ রোগীদের প্রতারিত করছে। ফলে চিকিৎসা সেবায় চরম অরাজকতা বিরাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে রোগীদের জীবন। গত জুন পর্যন্ত ২ বছরে সারা দেশে ভুল চিকিৎসা ও ভুয়া ডাক্তারের কবলে পড়ে সাড়ে ৪ শতাধিক রোগীর করুণ মৃত্যু ঘটেছে। তার মধ্যে রাজধানীর নামিদামি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ভুল ও গাফিলতিতে ৬৭ জন এবং ঢাকার বাইরে আরো প্রায় ৪০০ রোগী মারা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুয়া ডিগ্রিধারী ডাক্তাদের ভুল চিকিৎসায় রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে অল্প সময়েই তাদের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে।

সূত্র জানায়, দেশে ভুয়া ডিগ্রির অভাব নেই। টাকা দিলেই পাওয়া যাচ্ছে সব মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের জাল সনদপত্র। যা অজ্ঞ-অদক্ষ চিকিৎসক সৃষ্টিতে সহায়তা করছে। সামান্য কিছু টাকা খরচ করলেই যে কেউ হতে পারেন সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত ডাক্তার। পড়াশোনা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত থাকলেও অসুবিধা নেই। খরচের পরিমাণও নাগালের মধ্যে। ভারত বা অন্য দেশের সার্টিফিকেট পেতে ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ করলেই হয়। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসঘেঁষা এলাকা থেকে ওসব সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে সব মিলিয়ে ৫/৬ হাজার টাকা লাগে। ডেন্টাল কলেজের সার্টিফিকেটের জন্য ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা হলেই চলে। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্টিফিকেট পেতে হলে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা গুনতে হয়।

সূত্র আরো জানায়, হাতুড়ে ডাক্তার হয়েও অনেকেই সাইনবোর্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয়ে রাজধানীসহ সর্বত্রই প্রতারণা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ফার্মেসিতে মোবাইল কোর্টের অভিযানকালেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়ধারী ৩১ জনকে আটকের ঘটনাও ঘটে। শতকরা ৯০ ভাগ ভুয়া ডিগ্রিধারী ডাক্তার দ্বারাই বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক-নার্সিং হোমের চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হচ্ছে। বাণিজ্যের লক্ষ্যে ভুয়া ডাক্তাররা নামের পেছনে এফআরএসএইচ, এমএসিপি, এফআরসিপি, পিজিটি, এমডি ও এফসিপিএস (ইনকোর্স) ও পার্ট-১ অথবা পার্ট-২সহ বিভিন্ন ডিগ্রি উল্লেখ করে। শুধু তাই নয়, ভুয়া ডিগ্রির সঙ্গে লন্ডন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নামও উল্লেখ করা হয়। ওই কারণে সাধারণ রোগীরা ওসব ডাক্তারকে বিদেশি ডিগ্রিপ্রাপ্ত বলে মনে করে। আর ওই সুযোগে ভুয়া ডাক্তাররা রোগীপ্রতি ফি ৫শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে।

এদিকে ভুয়া ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, চিকিৎসা সেক্টরে ভুয়া ডাক্তার ও অপচিকিৎসা ব্যবস্থাটি বছরের পর বছর ধরে দুরারোগ্য ক্যান্সারের মতোই চেপে আছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার লক্ষ্যে বিএমডিসি ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই।

Leave a Response