Saturday, October 24, 2020
রাজশাহী

এমপির সামনেই গোদাগাড়ী কলেজ অধ্যক্ষকে এলোপাতাড়ি মারপিট

1.67Kviews

গোদাগাড়ী কলেজ অধ্যক্ষকে এলোপাতাড়ি মারপিট

গোদাগাড়ী কলেজ অধ্যক্ষকে এলোপাতাড়ি মারপিটনিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানকে পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা। গতকাল রোববার বিকেলে কলেজের সভা চলাকালে পরিচালনা কমিটির সদস্য পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি অয়েজউদ্দীন বিশ্বাসের সাথে কথা কাটাকাটির জের ধরে কলেজ অধ্যক্ষকে বেদম মারপিট করা হয়। কলেজের বাইরে থেকে অয়েজউদ্দীন বিশ্বাসের অনুসারি নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা সভাকক্ষে ঢুকে অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানকে পেটায়।

তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার জন্য এম্বুলেন্স গেলেও স্থানীয়রা এম্বুলেন্স ফিরিয়ে দেয় এবং অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার ও কলেজ অধ্যক্ষসহ সভায় অংশগ্রহণকারী সদস্যরা সভাকক্ষে অবস্থান করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে স্থানীয় নেতা কর্মীরা সেখান থেকে সরে গেলে অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানকে এম্বুলেন্সে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ সূত্রে জানাযায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল বিকেলে কলেজের পরিচালনা কমিটির সভা শুরু হয়। সভা চলাকালীন সময়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান ও কমিটির সদস্য পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি অয়েজউদ্দীন বিশ্বাসের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। অয়েজউদ্দীন বিশ্বাস দাবি করেন, অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান নিজের দূর্নীতি ও অনিয়ম থেকে রেহাই পেতে তার বিরুদ্ধে মনগড়া বক্তব্য দিলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এরই এক পর্যায়ে কলেজ অধ্যক্ষ তাকে ঘুষি মারেন।

সভা চলাকালেই বাইরে ছড়িয়ে পড়ে যে, অয়েজউদ্দীন বিশ্বাসকে মেরেছেন কলেজ অধ্যক্ষ। এই খবর শুনেই অয়েজউদ্দীন বিশ্বাসের অনুসারিরা দল বেঁধে সভা কক্ষে ঢুকে পড়েন এবং সংসদ সদস্যসহ উপস্থিত সবার সামনেই অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানকে এলাপাতাড়ি মারপিট করেন। কিছুক্ষন পর সভায় উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল আকতার ,সহকারী পুলিশ সুপার (গোদাগাড়ী সার্কেল) লুৎফর রহমানসহ পুলিশ সদস্যরা সভাকক্ষ থেকে অয়েজউদ্দীন বিশ্বাস ও তার অনুসারীদের সভাকক্ষ থেকে বের করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে অয়েজউদ্দীন বিশ্বাসের অনুসারীরা বাইরে বিক্ষোভ করেন। এসময় কলেজ অধ্যক্ষকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য সেখানে একটি এম্বুলেন্স গেলেও প্রথমে সেটিকে ঠুকতে দেয়া হয়নি। অবশ্য কিছুক্ষন পরে এম্বুলেন্সে করে অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্রে জানাগেছে, দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানকে কমিটির সভাপতি শোকজ করেন। গতকালের সভায় শোকজের জবাব দাখিল করেন অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান। কলেজ অধ্যক্ষ তার জবাবে দাবি করেন, কমিটির সদস্য অয়েজউদ্দীন বিশ্বাস ও একজন শিক্ষক তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবী করেন। দাবীকৃত ঐ টাকা না দেওয়ায় তার (অধ্যক্ষ) বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অধ্যক্ষের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন অয়েজউদ্দীন বিশ্বাস। এরই এক পর্যায়ে বাকবিন্ডায় জড়িয়ে পড়েন কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান ও অযেজউদ্দীন বিশ্বাস।

পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি অয়েজউদ্দীন বিশ্বাস বলেন, অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান নিজের দূর্নীতি ও অনিয়ম থেকে রেহাই পেতে তার বিরুদ্ধে মনগড়া বক্তব্য দেয়ায় তার প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে কলেজ অধ্যক্ষ ঘুষি মারে। অধ্যক্ষকে তার লোকজন মারধোর করেনি বলেও অয়েজউদ্দীন বিশ্বাস দাবী করেন।

Leave a Response