Wednesday, October 21, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

গোদাগাড়ীতে রোপা আমনে মাজরার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক

319views

গোদাগাড়ীতে রোপা আমনে মাজরার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক

শামসুজ্জোহা বাবু, গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: গোদাগাড়ীতে রোপা-আমনে মাজরা (বাদামী গাছ ফড়িং) পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক প্রয়োগে কাজ হচ্ছে না। স্থানীয় কৃষকরা জানান, সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খরার মুখে পড়ে রোপা আমন চাষ। এতে করে রোপা আমন চাষ বিলিম্বিত হওয়ায় মাজরা পোকার আক্রমণে জমিতে রোপনকৃত ধানের চারা শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক প্রয়োগ করেছে। কিন্ত এসব কীটনাশকে মাজরা পোকা দমন হচ্ছেনা। কোন কাজ না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে চাষিরা।

মাজরা পোকার আক্রমনের সঙ্গে কিছু এলাকায় রোপা-আমন ধানের চারা গোড়ায় পচন ধরেছে। কৃষকরা অভিযোগ করেন রোপা আমন ধানে চারায় মাজরা পোকা ও পচন ধরায় উৎপাদন নিয়ে চিন্তায় পড়েলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লোকজনকে মাঠ পর্যায়ে পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় এ অঞ্চলের কৃষকরা রোপা আমন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সৃত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার হেক্টর জমিতে কম চাষ হয়েছে রোপা আমনের। উপজেলার পাকড়ী, কেশবপুর, গোগ্রাম, বসন্তপুর, দেলসাদপুর, শিমলাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়,খরা মোকাবিলা করে মাজরা পোকা ও পচনের হাত থেকে রোপা আমন বাচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কৃষকরা।

উপজেলার শিমলার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন বৃষ্টিপাত পর্যাপ্ত পরিমানে না হওয়ায় গভীর নলকুপের সেচের পানি দিয়ে ১৬ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছে। সপ্তাহ আগে জমিতে রোপনকৃত কিছু অংশের রোপা আমনে মাজরা পোকা দেখা দিলেও এখন পুরো জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষক রফিকুল ইসলাম আরো বলেন বিভিন্ন কোম্পানীর কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে কয়েকবার। কিন্ত মাজরা পোকার উপদ্রব্য কমছে না।

এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন রোপ-আমনের চারায় মাজরা পোকা বসে ধান গাছের রস খেয়ে ফেলে। তখন যে সব খাবার দেয়া হয় তা ধান গাছের উপরে যেতে পারেনা। এক পর্যায়ে সবুজ ধানের গাছ লালচে হয়ে শুকিয়ে মারা যায়। রোপা আমনে মাজরা পোকা দমনে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছে। কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শের পাশাপাশি মাজরা পোকা দমনে কারটাফ ও সাইপামেথিন নামীয় কীটনাশক ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে।

Leave a Response