Friday, September 18, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

কাফীর পোস্টার নিয়ে ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা

45views

কাফীর পোস্টার নিয়ে ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা
কাঁকনহাট পৌরসভার বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর কাফী তার ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, আইসিটি উপদেষ্টা, রাসিক মেয়র, সংসদ সদস্যের ছবি ব্যবহার করায় সমালোচনা তুঙ্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আব্দুল্লাহীল কাফী। কাঁকনহাট পৌরসভার কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে। তিনিই এখন পৌরসভার মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তাই এবার ঈদে তিনি পৌরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌর এলাকায় তার বাড়ি। তিনি পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখন বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন। কাফী একজন চরমপন্থী ক্যাডারও ছিলেন। গেল বছরের ৯ এপ্রিল পাবনার শহীদ আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। সেদিন দেশের ১৪ জেলা থেকে মোট ৫৯৫ জন সর্বহারা ক্যাডার আত্মসমর্পণ করেন। এদিকে, আব্দুল্লাহীল কাফী তার সাঁটানো পোস্টারে নিজের ছবির সাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, রাজশাহী সিটি মেয়র ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছবিও যুক্ত করেছেন। এনিয়ে তৈরী হয়েছে নানান প্রশ্ন। সমালোচিত ব্যক্তি হয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীসহ এসব জনপ্রতিনিধির ছবি ব্যবহারকে প্রশ্নের চোখেই দেখছেন স্থানীয়রা।

কাফী আগে যুবলীগ করতেন। কিন্তু ২০০৮ সালের দিকে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পৌর মেয়র পদে তিনি নির্বাচন করেন। তখন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। পরেরবার কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেন। এরই মধ্যে চরমপন্থী সদস্য হিসেবে প্রচার পায়। তাই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। এখন তিনি আওয়ামী লীগ বা কোন সহযোগী সংগঠনের পদে নেই। অথচ ঈদ শুভেচ্ছার ফেস্টুনে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর ছবি ব্যবহার করেছেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে কাঁকনহাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবীর বলেন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সাথে কাফীর কোন সম্পর্ক নেই। তিনি দলের কর্মীও নন। ২০০৮ সালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাকে দলের সকল প্রকার কর্মকান্ড থেকে বহিস্কার করা হয়। কাফী যা করছেন তা ব্যক্তিগতভাবে। এটা দলের কোন সিদ্ধান্ত নয়। তিনি যেভাবে সকলের ছবি ব্যবহার করেছেন এ বিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কারণ তিনি একজন চরমপন্থী। এ ধরনের লোকের আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের কোথাও ঠাঁই নেই।

কাঁকনহাট পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন শওকত বলেন, তিনি যখন সভাপতি ছিলেন তখন কাফীকে বহিষ্কার করা হয়। সেই বহিষ্কারাদেশ এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি। কাঁকনহাট পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, একজন চরমপন্থী ব্যক্তি জাতির পিতা, দলীয় প্রধান, সংসদ সদস্য ও মেয়রের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি দিয়ে ফেস্টুন বানান। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। কাফী এ ধরনের কোন কাজ করতে পারেন না।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ বলেন, অজ্ঞাতবশত অনেকেই চাটুকারিতার আশ্রয় নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন তৈরী করছেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। বিশেষ করে স্থানীয় নেতাদের ছবি ব্যবহারের পূর্বে অনুমতি নেয়া প্রয়োজন। কাফীর বিষয়ে পৌরসভা আওয়ামী লীগ অভিযোগ দিলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

কাঁকহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবদুল মজিদ বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। কাফী তার ফেস্টুনে নিজেকে কাউন্সিলর হিসেবেও পরিচয় দিয়েছেন। অথচ তিনি স্থায়ীভাবে বহিস্কৃৃত। তাই কাউন্সিলর পরিচয়ও তিনি দিতে পারেন না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে পৌরসভা থেকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি। মেয়র বলেন, আমার কাছেও তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগই আসে। তার কর্মকান্ড পৌরসভার সুনাম ক্ষুণ করছে এ কথা সত্য। এ নিয়ে আমাদেরকেও অনেক সময় বিব্রত হতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালে কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় কাফী পৌরসভার ভিজিএফের গম বিতরণের সময় লুট করে নিয়ে যেতে চান। তখন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। জমি দখলের আরেকটি মামলায় তার দুই বছরের কারাদন্ড হয়। ‘লাল-সবুজ’ নামে একটি সংস্থা খুলে গ্রাহকের আমানতের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে সংস্থাটির ঋণ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন কাফী। এর আগে ২০১৭ সালে সংস্থাটির কার্যক্রমের এক তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজ লিখেছিলেন, আইন লঙ্ঘন করে এটি পরিচালিত হয়। সংস্থাটি থেকে জনগণের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাফীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পৌরবাসির মুখে মুখে। স্থানীয়রা জানান, কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেও তিনি এলাকার উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখেননি। এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রোববার দুপুরে আব্দুল্লাহীল কাফীকে ফোন করা হয়। বরখাস্ত হওয়ার পরও ফেস্টুনে কাউন্সিলর লেখা কেন, জানতে চাইলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Response