Thursday, October 22, 2020
রাজশাহী

কমদামে সিগারেট পেয়ে ধূমপানে ঝুঁকছে রাজশাহীর কিশোররা | রাজশাহী সংবাদ

861views

ধূমপানে ঝুঁকছে রাজশাহীর কিশোররা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা বাজারের উত্তর দিকে কয়েকটি ছোট ছোট কয়েকটি পান সিগারেটের দোকান। একটি দোকানে স্কুলের ড্রেস পরা জনা পাঁচেক কিশোর। একজনের হাতে একটা সিগারেটের প্যাকেট। ভর দুপুরে স্কুলের টিফিনের সময়ে তারা এখানে নিরালা একটু সিগারেট ফুঁকছিলো। নাম পরিচয় এমনকি স্কুলের নামও গোপন রাখার শর্তে তারা জানালো নিজেদের স্মার্ট প্রমাণ করার জন্য একটু আধটু ধূমপান করেন। তবে দামি সিগারেট তারা কিনেন না। হাতের সিগারেটের প্যাকেট থেকে দুটো সিগারেট বের করে দেখালো এগুলো। একটু বেশি ভাব দেখানোর জন্য দুষ্টু কিশোররা কমদামের সিগারেট বেশিদামের প্যাকেটে ভরে রাখছে। সেনর গোল্ডের দাম কতো জিজ্ঞেস করলে উত্তরে বলছে মাত্র ১২ টাকা প্যাকেট। এই ছাত্রদের একজন জানালো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে সবার অনুরোধে একটা দুইটা টান দেন। তাছাড়া দামী সিগারেট আর কমদামি সিগারেটের মধ্যে তার কাছে কোন পার্থক্য নেই।

এসকল শিশু কিশোরদের কাছে সিগারেটের ব্র্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ নয় তাদের কাছে সিগারেট ফুঁকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আর এজন্য কম দামের সিগারেটের প্রতিই তাদের আগ্রহটা একটু বেশি। টিফিনের দশটাকা থেকে একটাকা বাঁচিয়ে সিগারেট ফুঁকাটা তার গায়ে লাগেনা। বরং দাম কম হওয়ায় এই সিগারেটের প্রতি আশক্তিটা বেড়ে যায়।

ধূমপায়ীর সংখ্যা কমানো ও নতুন করে যেন ধুমপায়ী না তৈরি হয় সে লক্ষ্যে সরকার প্রতি বছর সিগারেটের দাম বাড়িয়ে থাকে। গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে প্রতি প্যাকেট সিগারেটের সর্বনি¤œ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৭ টাকা এবছর অর্থাৎ ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সে মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ টাকা। এতে খুচরা বাজারে প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম পড়ে ৪ টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা যায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কমমূল্যে সিগারেট বিক্রি করা আইনত অবৈধ। একই সূত্র থেকে আরো জানা যায় প্রতি দশ শলাকার নি¤œস্তরের সিগারেটের প্যাকেট থেকে সরকার ৭১ শতাংশ বিভিন্ন রকমের কর আদায় করে থাকে। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ। এতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৩৫ টাকা মূল্যের প্রতি প্যাকেট সিগারেটে সরকারকেই দিতে হয় ২৪.৮৫ টাকা। যেখানে সরকারকে দিতে হয় প্রায় ২৫ টাকা সেখানে পুরো রাজশাহী ও এর আশেপাশের জেলা সমূহে সিগারেট বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১২-২০ টাকা মূল্যে।

জেলার পবা, মোহনপুর, গোদাগাড়ী, বানেশ্বর, নওহাটা, সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা মিলে সেনর গোল্ড সহ বেশ কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ডের সিগারেটের রমরমা বানিজ্য। রাজশাহী ছাড়াও নাটোর, চাপাই নবাবগঞ্জ, নওগাঁসহ বেশ কয়েটি জেলায় বাজার অনুসন্ধান করে দেখা গেছে হ্যারিটেজ টোব্যাকোর সিটি বø্যাক সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ১২-১৫ টাকা মূল্যে। তারা টোব্যাকোর সেনর গোল্ড ক্লাসিক বিক্রি হচ্ছে ১৪-১৫ টাকায়, একই কোম্পানীর স্মার্ট বø্যাক সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকায়। এস এম টোব্যাকোর সেনরগোল্ড স্পেশাল বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকায়। নাসির টোব্যাকো কোম্পানীর নাসির গোল্ড সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ২০-২২ টাকা মূল্যে।

সিগারেট নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সেনর গোল্ডের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি সাথে কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ বিক্রয় প্রতিনিধি জানান মূল্য সিগারেটের ফ্যাক্টরিতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ব্র্যান্ডরোল বা ট্যাক্স স্ট্যাম্প সংযুক্ত করতে হয়। এই ব্র্যান্ডরোল বা ট্যাক্স স্ট্যাম্প সরকারের কাছ থেকে নগদ মূল্যে ক্রয় করতে হয়। এজন্য সিগারেট বিক্রির আগেই সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব পরিশোধ হয়ে যায়। তবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য মাঝে মধ্যে নকল ব্র্যান্ডরোল বা ট্যাক্স স্ট্যাম্প ব্যবহার করা হয় বলে ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

সরকার নির্ধারিত মূল্য যেখানে ৪ টাকা সেখানে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১.৫-২ টাকা মূল্যে। এতে করে রাজশাহীতে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমার বদলে বেড়েই চলছে। অন্যদিকে এসকল সিগারেট থেকে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। সচেতন নাগরিকদের মতে এসকল অবৈধ সিগারেটের দৌরাত্মের ফলে কোমলমতি শিশু কিশোররা ধূমপানের দিকে ধুকছে যা সমাজের জন্য একটি অশনি সংকেত।

Leave a Response