Monday, October 19, 2020
টপ নিউজশিক্ষাঙ্গন

এলোপাতাড়ি পিটানো হলো রাবি ছাত্রকে

296views

এলোপাতাড়ি পিটানো হলো রাবি ছাত্রকে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলায় একজন গুরুতর আহতসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে। সোমবার বিকেল ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী লাঠি, জিআই পাইপ, হাতুড়ি, রড নিয়ে মিছিলে হামলা করে। ঘটনাস্থল থেকে আন্দোলনকারী ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম তারেককে গুরুতর আহতবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেল ৪ টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক দিয়ে স্থানীয় বিনোদপুরের দিক থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দিকে আসেন আন্দোলনকারীর। তবে এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা প্রধান ফটকের সামনে পতাকা মিছিল করবে এই খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রধান ফটকে অবস্থান করতে থাকে। এসময় তাদের হাতে লাঠি, জিআই পাইপ, হাতুড়ি, রড ইত্যাদি দেখা যায়। এছাড়া সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ দাড়িয়ে ছিল। জাতীয় পতাকা হাতে আসে কোটা আন্দোলনকারীরা। তাদের দেখেই ধাওয়া দেয় ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা ফলে আন্দোলনকারীরাও পাল্টা ধাওয়া দেন। এসময় পুলিশও ছাত্রলীগের পেছনে দৌড়াতে থাকে। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মারধর করলে তারেক রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে লাঠি, রড, হাতুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করতে থাকে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এদিকে, এই হামলা ও মারধরে কোটা আন্দোলনকারী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়।

কোটা আন্দোলনকারী বিশ^বিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ দাবি করেন, পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে হামলা চালায়। তাদের হামলায় নিজে (মোন্নাফ), আন্দোলনকারী নেতা তারেকসহ ১১ জন আহত হয়। এদিকে হামলায় ছাত্রলীগের কেউ আহত হয়নি বলে দাবি করেছেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু। জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, কোটা আন্দোলনকারীরা দেশে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এজন্য তাদেরকে প্রতিহত করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার সময়ে উপস্থিত থাকা মতিহার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহবুব আলম ছাত্রলীগ নেতাদের ক্যাম্পাসের ভিতরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যদিকে আহত শিক্ষার্থীকে রামেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে তারিকুল নামে এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ এর আগে সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কালো পতাকা মিছিলের কথা থাকলেও ছাত্রলীগের অবস্থানের সামনে আসতে পারেনি কোটা আন্দোলনকারীরা। তাছাড়া সকাল থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মোটর সাইকেলে মহড়া দিতে দেখা যায় ছাত্রলীগের নেতাদের।

ছাত্রলীগের লাঠি, জিআই পাইপ, হাতুড়ি, রড নিয়ে হামলায় আহত ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম তারেকের শারীরিক এখনো গুরুত্বর। মাথায় আঘাত আর পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারেককে সিটি স্ক্যান করানো হয়েছে তবে এখনো রিপোর্ট আসেনি। মাথা ও পায়ে দুটি অপারেশন করার পর বর্তমানে তারেক রামেকের ৩২ নং ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। তবে এখনো সে আশঙ্কা মুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত ডাক্তার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোটা সংস্কার কমিটির রাবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ তারেকের দায়িত্বে নিয়োজিত ডাক্তারের বরাত দিয়ে বলেন, একটি পা ভেঙে গেছে। মাথায়ও ভালো আঘাত লেগেছে। তবে সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট আসলে বিষয়টা আরও ক্লিয়ার হওয়া যাবে।

Leave a Response