Sunday, September 20, 2020
৫ মিশালিখোলামতনারী

একটি রুমাল

326views
রায়হানা রহমান খান: 
রানুর ঘরের ভেড়ানো দরজা খুলে ঢুকে পড়লো শেফালী। রানুর পাশে গিয়ে বসে বলল ..এ রানু। কিছু না বোঝার ভান করে বলল, কে এসেছে? শেফালী মুখ ভেংচি দিতে বলল ,আহা বোঝো না না? তোমার মান্না ভাই। রানু লাজুক চোখে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে বলল যাও না পড়তে দাও। এরই মাঝে হুড়হড় করে এসে শাহীন বলল রানু তিন কাপ চা দিয়ে যা তো। আর যদি মুড়ি থাকে আনিস। শেফালী রানুকে বলল যাও …রানু বলল পারব না, তুমি যাও। তোমার বর চাইসে। শেফালী বলল আমার বর আর তোমার ভাই না তাই না? রানু বসেই থাকলো। শেফালী বলল, তাইলে আমিই নিয়ে যাই বলতেই রানু দৌড়ে এসে শেফালীকে জড়িয়ে ধরল। শেফালী বলল আমি চা বানিয়ে আনছি তুমি শাড়িটা পাল্টে ফেলো।
রানু চট করে শাড়ি পাল্টে একটা লাল টিপ পরে ফেলল। আয়নার দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। চোখ খুলে দেখে পেছনে মান্না ভাই দাঁড়িয়ে আছে। তাকে কানে কানে বলছে, এত সাজলি কেনো? রানু চোখ বন্ধ করে বলল ,তোমার জন্য। শেফালী ডেকে উঠল, রানু চা নিয়ে যা। রানু চমকে দৌড়ে রান্নাঘরের দিকে গেল। চা নিয়ে ছাদে গিয়ে দেখে মান্না ভাই এর সাথে নতুন একজন। ওকে দেখে শাহীন বলল রানু নিচে যা। রানু ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছে, ফরসা সুন্দর চেহারা ,কালো কোকড়ানো চুল ,চা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একবার তাকালোও না ,অহংকারী।
মান্না রানুকে বলল ,নিচে যা। রানু চাপা স্বরে বলল, কেমন লাগছে আমাকে? মান্নার কঠিন গলাটা নমনীয় হয়ে গেল, বলল যেমন ই লাগুক তুই তো সারাজীবনের আমার। কথাটা শুনেই রানু দৌড়ে নিচে নামতেই মহসিন ভাইয়ের সামনে পড়ল। মহসিন বলল কি? রানু দৌড়ে ঘরে চলে গেল। এরপর দুইদিন ছেলেটি আসলো কিন্ত রানুর সাথে কথা বলল না। রানু মনে মনে বলে সাদা বিল্লী।
দু সপ্তাহ পর ছেলেটি আবার আসলো। রানুর ভাই আর মান্না যখন রানুর বাবার সাথে কথা বলছিল তখন রানু দৌড়ে ছাদে গিয়ে তাকে কটমট করে বলল ,নাম কী? ছেলেটি বলল, রবিউল। রানু বলল, এতো দেমাগ কেনো? রবিউল বলল, মান্না ভাই আমার বড় ভাই এর মতো। রানু বলল, তো কথা বলা নিষেধ? আচ্ছা বলেন তো আমাকে শাড়ি পরে কেমন লাগে?
রবিউল বলল, যেখানে সারা দেশের মানুষ বাংলা ভাষার জন্য লড়াই করছে, মিছিল -মিটিং করছে ,আমাদের নেতাদের ধরে নিয়ে জেলে ভরছে, মানুষকে মেরে ফেলছে ,আপনার মুখের ভাষাটা যেন কেও কেড়ে নিতে না পারে সেজন্য প্রানপন চেষ্টা করছি আর আপনি? সত্যি অবাক লাগে
একথা শুনে রানু বাবার ঘরে গিয়ে রেডিও শুনতে লাগল।দুদিন পর বাইরের দরজা সজোরে কেও বাড়ি দিচ্ছিলো , মহসিন ভাই দরজা খুলে দিতেই মান্না আর রবিউল ঢুকে বলল শাহীন ভাই আমতলায় যেতে হবে…১৪৪ধারা আমরা মানবো না।
শাহীনের মা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন ,যাস না বাবা , শেফালীর কী হবে? শাহীন বলল, মা আজ আমায় বাধা দিওনা…আমাদের এ সংগ্রাম তো তোমার আমার ,আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য। এ তো আমাদের মুখের ভাষার লড়াই মা।
বলেই বেরিয়ে পরল সে। রানু ঘরে এসে দেখে মান্না দরজার কোনে দাঁড়িয়ে আছে। রানু বলল, তুমি?
মান্না:তোর সাথে ঘর বাঁধবো রানু ,আমাকে যেতে বলিস না। রানু: ছি,তুমি একটা কাপুরুষ। ঘৃনা করি তোমায়।
মান্না: ভালোবাসি তোকে..একটা কথা মনে রাখিস তুই শুধু আমার ,বলে পকেট থেকে একটা সাদা রুমাল বের করে বলল ,তুই আজ থেকে আমার আর এটাই তোর সম্বল। মান্না বেরিয়ে গেল
সন্ধার পর মহসিন ভাই বাড়ী ফিরে দরজা লাগিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগল…শেফালী দরজায় বসে পড়ল । রানু দৌড়ে মহসিন ভাই কে বলল আর মান্না ? মহসিন ভাই রানুর মাথায় সাদা রুমালটি পরিয়ে দিল।

Leave a Response