Sunday, September 20, 2020
উত্তরাঞ্চলখোলামতবিশেষ সংবাদশিক্ষাঙ্গন

একজন শিক্ষকের মানবিক আবেদন

599views
করোনাভাইরাস নিয়ে সারা বিশ্বই এখন অস্থির। বাংলাদেশেও এনিয়ে অঘোষিত লকডাউন। রাজশাহীতেও রাস্তায় লোকজনের চলাফেরা খুবই কম। দোকানপাট বন্ধ। তবে, এই সংকবটের মাঝে চরম অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে। করোনাতো মানুষকে ভাবাচ্ছেই, অন্যান্য রোগের রোগীরা আছেন আরো চিন্তায়। কারণ রাজশাহীতে চিকিৎসকরা গত কয়েক দিন ধরে তাদের চেম্বারে রোগী দেখছেন না।  হাসপাতালও ব্যস্ত করোনা নিয়েই। এ অবস্থায় কী করবেন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, পেটের পীড়া বা অন্য রোগে আক্রান্তরা। কী করবেন তারা ? এমনি চরম এক অনিশ্চয়তা নিয়ে মানবিক আবেদন জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ র অধ্যাপক ড. হাছানাত আলী। ফেসবুকে তিনি একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তার এ আবেদন জানান। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

#প্রিয়_সাংবাদিক_ভাইও_বোনেরা। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

গত প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ আপনারা জীবনের ঝুকি নিয়ে করোনা সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করছেন। সঠিক তথ্য সরবরাহ করে জাতিকে উজ্জীবিত করছেন। আপনাদের এই অবদান জাতী চিরদিন শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে।
অত্যন্ত দুঃখের সাথে একটা বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আমি গত ১৯/৩/২০২০ তারিখ থেকে বুকে ব্যাথা নিয়ে বাসায়। মাঝখানে ব্যাথা বৃদ্ধি পাবার কারনে রাজশাহী’র পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক প্রিয় শামিমের সাথে যোগাযোগ করে একজন হার্ট স্পেশালিস্ট কে দেখানোর জন্য এ্যাপয়েন্টমেন্ট চাই। এখানে বলে রাখা ভাল যে রাজশাহীর অধিকাংশ নামি দামি চিকিৎসক এখানে তাদের প্রাইভেট প্রাকটিস করে থাকেন। করোনার কারনে অধিকাংশ সিনিয়র ডাক্তাররা আর চেম্বার করছেন না শুনে ভয় পেয়ে গেলাম। পরবর্তীতে শামিম ভায়ের সহযোগিতায় সর্দি কাশি নেই এই নিশ্চয়তায় মেডিসিন’র অপেক্ষাকৃত জুনিয়র ডাক্তার কে দেখালাম। কিছু টেস্ট হলো। বড় কোন জটিলতা নেই মর্মে ডাক্তার সাহেব কিছু মেডিসিন দিলেন। দ্রুত ব্যথা ভালো হয়ে যাবে তাও বললেন। এরপর প্রায় ৫/৬ দিন চলে গেলো। নিয়োমিত ঔষধ খাচ্ছি। কিন্ত উন্নতি যে খুব একটা হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ২৮/৩/২০২০ সকালে পুনরায় পপুলারের ব্যবস্থপককে ফোন দিয়ে একজন হার্ট স্পেশালিস্ট এর এ্যাপয়েন্টমেন্ট চাইলাম। করোনা ভয়ে কোন ডাক্তার চেম্বার করছেন না শুনার পর বললাম ভাই তাহলে আমি একটা ইটিটি করাতে চাই। উনি বললেন স্যার ইটিটি করানোর ডাক্তার ও নেই।

আচ্ছা এখন তো পিপিই সহজলভ্য। সরকার ও সরবরাহ করেছেন। ডাক্তার সাহেবরাও ইচ্ছে করলে তা সহজেই কিনে নিতে পারেন। কতই বা দাম। দেশের মানুষ তো শুধু করোনা রোগেই নয় আমার মত অন্য রোগেও তো আক্রান্ত হতে পারেন। তা হলে কেন মানব সেবার ব্রত নিয়ে ডাক্তার সাহেবরা চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দিয়েছেন? কি আপনাদের সমস্যা? বলবেন কি? কেন চেম্বারে রুগি দেখা বন্ধ করে দিলেন? কয়দিন আগেও তো গাদাগাদি করে একসাথে ৮/১০ জন রুগিকে একসাথে চেম্বারে ঢুকিয়ে (সবাই নয়) গভীর রাত পযুর্ন্ত রুগি দেখতেন। মানছি আমরা এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। তাই বলে দেশে বহু চিকিৎসক থাকা সত্বেও আমরা বিনা চিকিৎসায় মারা যাবো? আপনারা কি সেটাই চান?

ডাক্তার হিসেবে নেয়া শপথটা কি তাহলে ভুলে গেলেন? রাজশাহীতে কর্মরত আমার সকল সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুদের অনুরোধ করবো বিষয়টি খতিয়ে দেখে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি নিয়ে আনুন। কেন ডাক্তার সাহেবরা প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন না। উনাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে সহজেই তো রুগি দেখতে পারেন। চিকিৎসকদের কে বিষয়টা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সুবিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করছি।

Leave a Response