Wednesday, October 28, 2020
রাজনীতি

উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ

285views

উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: উৎসব মুখর রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে প্রতিক বরাদ্দের পর সময় নষ্ট করতে চাননি প্রার্থীরা। নিজ নিজ প্রতীক জানার পরই নেমে পড়েন নতুন মাত্রা নিয়ে গণসংযোগে। প্রতিক পাওয়ার পর আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রচার শুরু করেন। রাজশাহীর হযরত শাহমখদুম (র:) মাজার জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। পাঁচ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নৌকা, বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ধানের শীষ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান কাঁঠাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শফিকুল ইসলাম হাত পাখা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ মোর্শেদ হাতি প্রতীক পেয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিক বরাদ্দ শুরু হয়ে চলে বিকেল পর্যন্ত। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম প্রার্থীদের মাঝে এই প্রতীক বরাদ্দ করেন। প্রতিক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় পোষ্টার ব্যানার সাটানো শুরু করেন।

সকাল থেকেই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচন কার্যালয়ে উপস্থিত হন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সেই প্রতীক নিয়ে শ্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় তারা ফিরে যান। ফলে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে চারপাশ। জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার আতিয়ার রহমান জানান, সকাল ৯টায় সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের প্রার্থিদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ শুরু হয়। এছাড়া বেলা সাড়ে ১১টায় মেয়র এবং দুপুর ১২টা থেকে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।

তিনি জানান, প্রতীক বরাদ্দের সময় প্রথমে একটি ওয়ার্ডের সব প্রার্থীদের তাদের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে বরাদ্দকৃত প্রতীকগুলো দেখানো হচ্ছে। প্রার্থীরা নিজের পছন্দমতো প্রতীক গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে একাধিক প্রার্থী একটি প্রতীককেই পছন্দ করলে সেক্ষেত্রে লটারি করা হচ্ছে। সকাল থেকে খুব সুন্দরভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ চলে বলেও জানান তিনি।

গত ১৩ জুন রাজশাহী সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সেদিন থেকেই প্রার্থীদের মাঝে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা নেওয়ার এই কার্যক্রম চলে ২৮ জুন পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে মেয়র পদে ছয়জন, সাধারণ কাউন্সিলরে ১৬৯ জন এবং নারী কাউন্সিলর পদে ৫২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন। গত ১ ও ২ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। সোমবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বাতিল ও প্রত্যাহারের পর এখন মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২১৭ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে রয়েছেন পাঁচজন। আর ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আছেন ১৬০ জন প্রার্থী। এছাড়া এসব ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ৫২ জন। এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে মেয়র পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে সাধারণ স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের নির্বাচন হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ করা প্রতীকেই। রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীরা আগেভাগেই তাদের প্রতীক সম্পর্কে অবগত থাকায় দু’একদিন আগেই তারা প্রচারপত্র প্রস্তুত করে ফেলেছেন।

Leave a Response