Tuesday, October 27, 2020
টপ নিউজরাজনীতি

সিটি কর্পোরেশনের সুনাম ও ঐতিহ্য ফিরে আনা হবে: লিটন

262views

সিটি কর্পোরেশনের সুনাম ও ঐতিহ্য ফিরে আনা হবে: লিটন

নিজস্ব প্রতিবিদেক: রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য সহকারীরা এবং জেলা দলিল লেখক সমিতি। সোমবার পৃথক দুইটি মতবিনিময় সভায় তারা এ অঙ্গীকার করেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর উপশহরস্থ খায়রুজ্জামান লিটনের বাসার পাশে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য সহকারীরা। সভায় উপস্থিত প্রায় দেড় শতাধিক স্বাস্থ্য সহকারীরা খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এ সময় উপস্থিত স্বাস্থ্য সহকারীরা গত পাঁচ বছরের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাদের উত্তরে আগামীতে নির্বাচিত হলে খায়রুজ্জামান লিটন নিয়মানুযায়ী তাদের চাকরি স্থায়ীকরণসহ স্বাস্থ্য বিভাগের উন্নয়নে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, গত পাঁচ বছরে রাজশাহীর কোনো উন্নয়ন তো হয়নি, বরং সিটি কর্পোরেশন প্রায় ৮০ কোটি টাকার দেনায় পড়েছে। ২০১৩ সালে আমার রেখে আসা স্বচ্ছল প্রতিষ্ঠানটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। আগামীতে নির্বাচিত হলে সিটি কর্পোরেশনের সুনাম ও ঐতিহ্য ফিরে আনা হবে। সেবার মান বৃদ্ধি করা হবে।

এদিকে দুপুর একটার দিকে নগরীর একটি রেঁস্তোরায় মতবিনিময় সভার আয়োজন করে রাজশাহী জেলা দলিল লেখক সমিতি। সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত দলিল লেখকেরা রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দলিল লেখকদের অহেতুক হয়রানির হাত থেকে রক্ষার দাবি জানান তারা। এ সময় নির্বাচিত হলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন খায়রুজ্জামান লিটন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজার রাখতে সব দলের প্রতি সহনশীল থাকতে হবে। দল-মতের উর্ধ্বে সবাই যদি ভালোবাসে, তবে সেটাই হবে যোগ্য নেতৃত্বে। আমি বিগত সময়ে সিটি কর্পোরেশনকে দলীয়করণ মুক্ত করতে পেরেছিলাম। দলীয় নেতাকর্মীদের বলতাম, দলীয় পরিচয়ে নয়, রাজশাহীর নাগরিক হিসেবে সিটি কর্পোরেশনের প্রবেশ করতে হবে। দলীয় ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও আমার বাসাতে আলোচনা হবে। খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, উন্নয়নের নৌকায় চড়ে দেশ যখন এগিয়ে গেছে। গত পাঁচ বছর ধরে আমরা পিছিয়েছি। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্যে, সুন্দর নগরী উপহার দেওয়ার জন্যে সহযোগিতা চাই। রাজশাহী জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মহিদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন দলিল লেখক সমিতির সহসভাপতি ও গোদাগাড়ী উপজেলার আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।

সবজি, মাছ, মাংস ও মুরগি ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সফল মেয়র ও আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নগরীর লক্ষীপুর কাঁচাবাজার এলাকায় এ কুশল বিনিময় করেন তিনি। এদিন বেলা ১১টার দিকে নগরীর লক্ষীপুর এলাকায় সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শুরু করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সফল মেয়র ও আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর একই এলাকার মাছ, মাংস, মুরগি ব্যবসায়ীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন তিনি। এ সময় বাজারে আসা ক্রেতাদের সঙ্গেও কুশল বিনিয়ম করেন। কুশল বিনিময়ের সময় সবার কাছে দোয়া কামনা করেন খায়রুজ্জামান লিটন।

এদিকে, সোমবার বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে মহানগর যুবলীগের বিশেষ কর্মীসভায় খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, চায়ের দোকানসহ সবখানে এখন বলা হচ্ছে, আগামীতে শেখ হাসিনা সরকার আবারো ক্ষমতায় আসবে। শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় আসবে, তাই তাঁর দল আওয়ামী লীগের নৌকার লোককে রাজশাহীকে মেয়র করতে হবে, তা না হলে উন্নয়ন সম্ভব হবে না। প্রধান অতিথির বক্তব্যে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, গত পাঁচ বছরে রাজশাহী অনেক পিছিয়ে গেছে, আরো পিছিয়ে গেলে রাজশাহী বড় গর্তে পরে যাবে, এমন কোনো ক্রেন নাই যেটা দিয়ে সেখান থেকে রাজশাহীকে টেনে তোলা যাবে।

জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার সন্তান এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহী থেকে কলকাতা বিমান যেতে হবে রাজশাহী থেকে ঢাকা বিরতীহীন ট্রেন যাবে, ঢাকা-চট্টগামের মতো রাজশাহী উন্নত হবে, এটি হতেই হবে, না হওয়ার কোনো কারণ নাই। শুধু একজন যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করতে হবে, যার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবদার করার, দাবি করার মতো ক্ষমতা আছে। খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, লাঙ্গল টানতে গেলে শক্তিশালী কি লাগে ? শক্তিশালী বলদ লাগে, ছাগল দিয়ে লাঙ্গল টাঙা যায় না। গত পাঁচ বছরে বিএনপির লোক মেয়র ছিল বলেই রাজশাহী আজ এই করুণ পরিণিতি। যিনি দপ্তর চালাতে পারেন না, ৮০ কোটি টাকা ঋণ করেছেন। ঈদের আগে কর্মচারীদের বেতন দিতে না পেরে ৫ দিন পালিয়ে ছিল। তিনি মেয়র হলে কেমন হবে সেটা আপনারাই বুঝতে পারছেন।

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমার আমলে রাজশাহী গ্রীন সিটি, ক্লিন সিটি হয়েছে। মানুষের সুনাম কুড়িয়েছে। বিগতে সময়ে মানুষ রাজশাহীকে যে ইজ্জত দিয়েছে, আগামীতে ১০ গুন বেশি ইজ্জত দেবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন খায়রুজ্জামান লিটন। মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলীর সভাপতিত্বে কর্মীসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুস সাত্তার মাসুদ, উপ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ হোসেন নবাব, সদস্য আমির উদ্দিন প্রমুখ।

২৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মতবিনিময় নারীরা সমর্থন দিলেন লিটনকে: আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, ‘২০১৩ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত অপপ্রচার করেছিল, খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র নির্বাচিত হলে নদীর ধারের একটি বাড়িও থাকবে না, সব বাড়িঘর ভেঙে দেবে। এই অপপ্রচার ও মিথ্যাচার বিশ^াস করে নগরবাসী আমাকে ভোট দেননি। এখন মানুষ তাদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। এখন কেউ কেউ বলছেন, লিটন ভাই আমরা ভুল করেছি, কেউ বলছে, অন্যায় করেছি। আগামীতে আর এই ভুল হবে না।’ সোমবার বিকেলে মহানগরীর পঞ্চবটি এলাকায় নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, মানুষের ঘরভাঙা আওয়ামী লীগের কাজ না, আমার কাজ না। বরং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিন্নমানুষদের জন্যে ফ্লাট বাড়ি তৈরি দিচ্ছেন। খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমার আমলে দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের (সিডিসি) মাধ্যমে এই এলাকার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। পরে বিএনপির বুলবুল মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর শুনি, সিডিসির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, বিদেশী অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেছে। বুলবুল নগরীর উন্নয়ন করতে পারেননি, কোনো বিদেশী অর্থায়ন আনতে পারেননি। আমার কাছে সাহায্য চাইতে আসলেও সাহায্য করতাম নগরীর উন্নয়নের স্বার্থে। খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, আমি আগামীতে কাজ করার সুযোগ পেলে সিডিসির কার্যক্রম পুনরায় চালু করবো। মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধ মীর ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহিনা আকতার রেনী। সভায় ৫ শতাধিক নারী উপস্থিত ছিলেন। তারা দুই হাত উপরে উচিয়ে খায়রুজ্জামান লিটনকে সমর্থন দেন। এছাড়া বিকেলে নগরীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ ওর্য়াকাস পার্টি, রাজশাহী মহানগরের কর্মীসভায় বক্তব্য দেন এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, নির্বাচন বর্জন করছে না। আবার নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তবে অনিয়মের কোনো প্রমান তারা দিতে পারছে না। আসলে নির্বাচন আসলেই বিএনপির মির্জা ফখরুলসহ আর দুই তিনজন আছেন, যারা অনিয়ম বের করার জন্যে টিভির সামনে বসে থাকেন। কিন্তু কোনো অনিয়ম খুঁজে পান না।

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, এবার নৌকা প্রতীকে সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নৌকা হচ্ছে শেখ হাসিনার প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক। আগামীতে রাজশাহীসহ তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মানুষ উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দেবে। মহানগর ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। সভায় খায়রুজ্জামান লিটনের দুইহাত উচিয়ে সমর্থন দেন ফজলে হোসেন বাদশা।

Leave a Response