Thursday, October 22, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

উন্নয়নের জন্য আগামী নির্বাচনে নৌকাই ভোট চাই: আসাদ

244views

মোহনপুরে শ্রমিকলীগের স্মরণ সভায় মানুষের ঢল
উন্নয়নের জন্য আগামী নির্বাচনে নৌকাই ভোট চাই: আসাদ

উন্নয়নের জন্য আগামী নির্বাচনে নৌকাই ভোট চাই-আসাদনিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেছেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যখন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই ঘাতকচক্র তাকে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। বাঙালি জাতির প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালাবাসা ছিল অসীম। সেই ভালবাসার জন্য তিনি দেশ স্বাধীন করেছেন।

শুধু তাই নয়, সেই সময় দেশ ছাড়া করা হয়েছে তার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। শুক্রবার বিকেলে মোহনপুর উপজেলা ডাকবাংলায় শ্রমিকলীগের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ এসব কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, বিএনপি সরকারের সময় রাজশাহীতে কোনো উন্নয়ন হয়নি। লুটপাট ছিল বিএনপি নেতাদের কাজ। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজশাহী চিত্র বদলে গেছে। রাজশাহীর অন্যান্য উপজেলার মত মোহনপুরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলার স্বাধীনতার সুর্যকে ছিনিয়ে এনেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু জিয়াউর রহমানের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর বঙ্গবন্ধুর লাশের গোসল ছাড়াই তাকে দাফন করার নির্দেশ দিয়েছিল মেজর জিয়া। কিন্তু সেই দিনের সেই ঈমাম বলেছিলেন, আমি একজন মুসলমান, তাই গোসল ছাড়া কোনো মুসলমানকে কবর দিতে পারবো না। যে বাংলাদেশের মানচিত্র এনে দিয়েছেল তাকে গোসল করানো হয়েছি ৫৭০ সাবান দিয়ে। মার্কিন কাপড় দিয়ে ১৬ জন আর্মি জানাযা করে তাকে দাফন করেছিলো।

আজ যারা খালেদা জিয়াকে নিয়ে মাতামাতি করেন, তার মুক্তি চান, তাদের বলতে চাই সেই সময় জিয়ার নির্দেশে শেখ মুজিবুর রহমানের খুনের বিচার হয়নি। কিন্তু এখন জনগণের আদালতে খালেদা জিয়ার বিচার শুরু হয়েছে। এই বিচার কোথায় শেষ হবে তা আদালতই বলতে পারবে। তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মের কথা বলে, কিন্তু কোরআনের কত পৃষ্ঠায় লিখা আছে একজন গর্ভবতি মাকে হত্যা করা যায়, কোথায় লিখা আছে ১০বছরের শিশুকে হত্যা করা যায়। বিএনপি ধর্মের কথা বলে হত্যার রাজনৈতি করেন করে, এটাই তাদের চরিত্র।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শেখ হাসিনা বাড়িতে ফিরে এলে জিয়াউর রহমান তাকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। রাস্তায় বসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আল্লাহর কাছে হাত তুলে খুনিদের বিচার চেয়েছিলেন। আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে যারা জড়িত ছিল বা আছে তারা কেউ ভাল অবস্থায় নেই, সুখে নেই, শান্তিতে নেই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই রাজশাহীতে হাজার হাজার পুলিশ পাহারায় খুনিরা মাদ্রাসা মাঠে জনসভা করেছিল। সেখানে দাম্ভিকতার সাথে তারা বলেছিল আমরা শেখ মুজিবকে হত্যা করেছি। তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি।

বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন তার কন্যা শেখ হাসিনা পুরণ করছেন। শেখ হাসিনা বাংলার মানুষকে সুখ এনে দিয়েছে, শান্তি এনে দিয়েছে। শ্রমিক মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন রাত পরিশ্রম করে মানুষের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দেয়। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিল বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাঁড় করাতে। সেই সপ্ন পুরণ করেছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা। পৃথিবীর তিনজন রাষ্ট্র নায়কদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দুর্নীতিবাজদের মধ্যে খালেদা জিয়া একজন। শুধু খালেদা জিয়াই নয়, তার ছেলে তারেক রহমান পৃথিবীর সবচেয়ে অসৎ রাজনীতিবিদদের মধ্যে একজন। তেমনি একজন সৎ চত্রিবান রাজনৈতিক ব্যক্তি শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন, খালেদা জিয়ার শাসন আমল দেখেন। শেখ হাসিনার শাসন আমলও দেখছেন।

বিএনপির শাসনালের চেয়ে আওয়ামী লীগের শাসন আমল অনেক উন্নত। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচনে আপনাদের কাছে ভোট চাই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এমপি বা মন্ত্রী যেই হোক জনগণের টাকা যারা চুরি তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে না। যারা বিএনপির সাথে যোগসাজস করেছে তাদের মনোনয়ন পাবে না। যারা বিএনপির সাথে আঁতাত করে, সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাত করেছে তাদেরকেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেবেন না।

উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মাস্টার মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মিলনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলফোর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ডাবলু রহমান, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক আজাদ আলী, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সদস্য আঞ্চলিক সচিব অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম সুলতান, মোহনপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সুলতান আলী, জেলা আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আফজাল হোসেন বকুল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রোখসানা মেহবুব চপলা, নওহাটা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আলমগীর মোরশেদ রনজু, মোহনপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সিদ্দিকুর রহমান, তাঁতীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সাইদুর রহমান সাজু।

Leave a Response