Saturday, October 24, 2020
সারাদেশ

ঈশ্বরদীতে ডাকাতের ভয়ে রাত জেগে পাহারা

426views

ঈশ্বরদীতে ডাকাতের ভয়ে রাত জেগে পাহারা

সেলিম আহমেদ: রাতভর ডাকাত আতঙ্কে ঘুম আসে না, সারারাত ঘরে পায়চারি করি। কখন ডাকাতরা এসে আমার বাড়িতে হানা দেয়, এই ভয়ে বাড়ির লোকজন নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। টাকা-পয়সা ও গহনা ঘরে রাখতেও ভয় পাচ্ছি। ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়াগোপালপুর এলাকার ষাটোর্ধ নারী রেজিয়া বেগম এমনটাই বলছিলেন। রেজিয়া বেগমের মতো ঈশ্বরদীর সব এলাকার বাসিন্দারা এখন ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে এই জনপদে একের পর এক ডাকাতি, লুটপাট ও দুধর্ষ চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় ঈশ্বরদীর মানুষ আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। গত ১৫ দিন ধরে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রাত কাটাচ্ছেন এসব এলাকার মানুষ। গ্রামে গ্রামে এলাকাবাসি দল বেধে রাত জেগে বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা করে পালাক্রমে টহল দিচ্ছেন। উপজেলা সদরের পাশের সাঁড়া ইউনিয়নে গত এক মাসে পাঁচটি দুধর্ষ চুরি ও কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার।

বিশেষ করে সাঁড়া ঝাউদিয়া শিমুলতলা গ্রামে উপজেলা কৃষি অফিসের অবসরপ্রাপ্ত সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফজলুল হক মন্টু, সাঁড়া ঝাউদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনি ও ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবসায়ী আনিসুজ্জামান মুক্তার পাশাপাশি তিন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনার পর এখনও নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন ওই এলাকার মানুষ। একই ভাবে গত বুধবার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারি মাথালপাড়া গ্রামে ব্যবসায়ি সহির আলীর বাড়িতে ডাকাতরা আট লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে এবং রোববার মোকারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জহরুল ইসলামের বাড়িতে ৭ থেকে ৮ জন মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত হামলা করে সাত ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ বাইশ হাজার পাঁচ’শ টাকা, দুইটি মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য গ্রামে।

এসব ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় মামলা হলেও ডাকাত আতঙ্ক কাটছে না সাধারণ মানুষের। এলাকাবাসিরা জানান, রাতে গ্রামে গ্রাম পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশরাও রাতভর দল বেধে টহল দিচ্ছেন। ঈশ্বরদী থানার পুলিশ ও পাবনার ডিবি পুলিশ দলও আলাদা ভাবে টহল দিচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। এরই মধ্যে সলিমপুর ও দাশুড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ডাকাতি ও চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্বীকার করেছেন দাশুড়িয়ার চেয়ারম্যান বকুল সরদার ও সলিমপুরের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু। একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় গত দু’দিন ধরে শহর ও শহরতলি এলাকায় ব্যাপক ভাবে ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সাঁড়া এলাকার এনামুল হক জানান, মঙ্গলবার বিকেলে সাঁড়া ঘাট এলাকায় ‘চিঠি দিয়ে ডাকাতি হবে’ এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, চুরি-ডাকাতি রোধে রাতে টহল পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং গ্রামে গ্রামে মানুষকে সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাবনা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইসলাম হোসেন বলেন, ঈশ্বরদীতে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ডিবি পুলিশও রাতে এই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গোপনে অভিযান চালাচ্ছে।

Leave a Response