Friday, October 23, 2020
রাজশাহী

ইসিতে দুই মেয়র প্রার্থীর পাল্টা-পাল্টি ৩৩টি অভিযোগ জমা

193views

ইসিতে দুই মেয়র প্রার্থীর পাল্টা-পাল্টি ৩৩টি অভিযোগ জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে ক্রমেই উত্তাপ্ত ও উত্তেজনাময় হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। দুই হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই এবার এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এতে নির্বাচনী মাঠ হয়ে উঠছে উত্তপ্ত। কর্মী সমর্থকদের মাঝেও বিরাজ করছে উত্তেজনা। রোববারও আওয়ামী লীগ -বিএনপির প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন। একে অপরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো এবং নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুরসহ আচারণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন দুই মেয়র প্রার্থী। রোববার খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে থেকে সাতটি এবং মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষ থেকে চারটি অভিযোগ করা হয় রিটার্নিং অফিসারের কাছে। এ নিয়ে রোববার পর্যন্ত লিটনের পক্ষ থেকে ১৭টি এবং বুলবুলের পক্ষ থেকে ১৬টি অভিযোগ রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা পড়লো। এছাড়াও নির্বাচনী গণসংযোগকালেও দুই মেয়র প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন।

সহকারি রিটানিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, রোববার পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষ থেকে ১৭টি ও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ থেকে ১৬টি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে আগের উভয় পক্ষের কয়েকটি অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে আচরণবিধি ভঙ্গের কোন প্রমান মেলেনি। রোববার যে অভিযোগগুলো দেয়া হয়েছে সেগুলোও তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের পক্ষে রোববার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বিএনপির-জামায়াতের স্বশস্ত্র ক্যাডাররা ধানের শীষের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, অপপ্রচার, অর্থের প্রলোভন ও পোস্টার ফেন্টুন ছিড়ে নষ্ট করা হচ্ছে। এই ৫টি অভিযোগ রিটানিং অফিসারের কাছে দেন নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর আইন সহায়তা উপ-কমিটির সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট মুসাব্বিরুল ইসলাম। এছড়াও মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নিজে কর্মীদের পুলিশী হয়রানি ও তার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাত না দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।

মুসাব্বিরুল ইসলাম তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ‘শনিবার রাত ৮টার দিকে বুধপাড়া এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কিছু সশস্ত্র নেতাকর্মী নির্বাচনী প্রচারণাকালে সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ধানের শীষে ভোট না দিলে পরবর্তী সময়ে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। তারা বলে এ এলাকা আমাদের ঘাটি, এখানে বসবাস করতে ধানের শীষেই ভোট দিতে হবে। তা না হলে তোমাদের শান্তিতে থাকতে দিব না। অপর অভিযোগ পত্রে মুসাব্বিরুল জানিয়েছেন, ‘শনিবার বিকেল ৬টার দিকে ১৭ নং ওয়ার্ড ভাড়ালিপাড়া এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে বিএনপি ও জামায়াতের কিছু মহিলা কর্মী প্রচারণা করে। অভিযোগে বলা হয় আওয়ামী লীগ ইসলামের শত্রু। তোমরা নৌকায় ভোট দিলে এদেশে গজব হবে। তাই তোমরা ইসলামের শত্রু লিটনকে ভোট দিও না। বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা এ ভাবে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের সুনাম ক্ষুন্ন করছে।’

‘শনিবার সকাল ৬টার দিকে ২৯ নং ওয়ার্ড ডাঁশমারি এলাকায় বিএনপি জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালায়। সেখানে সাধারণ ভোটারদের তারা বলে এই এলাকা বিএনপির জামায়াতের ঘাটি, এখানে বসবাস করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। তা না হলে কখন কি হবে কেই বলতে পারবে না। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।’ অপর অভিযোগে বলা হয় ‘শনিবার রাত ৯টার দিকে ১৪ নং ওয়ার্ড তেরখাদিয়া ডাবতলার এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে বিএনপির ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়ি বাড়ি প্রচারণা চালায়। এ সময় তারা ধানের শীষে ভোট দিলে ভোটারদের নগদ অর্থ সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এ সময় তারা ভোটের দুই দিন আগে স্থানীয় বিএনপির সভাপতির সাথে দেখা করে ধানের শীষে ভোট দেয়ার ওয়াদা করে অর্থ নেয়ার পরামর্শ দেয়। এছাড়াও ‘এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পুলিশ কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৃথক দুইটি অভিযোগ দেন। এর একটিতে নৌকার কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। আর অপরটিতে বিএনপির প্রতিনিধিদের স্বাক্ষাত দিলেও নৌকার পক্ষের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা না করার অভিযোগ করা হয় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে।’

অপরদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপু অভিযোগ করেন, শনিবার বিকেলে নগরের ২৩ নং ওয়ার্ডের বোষপাড়া এলাকায় ধীনের শীষের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি নান্নুকে হুমকি দেয় নৌকার প্রার্থীর কর্মীরা। একই দিন রাত রাত ১১টার দিকে হাদীর মোড় খাদেমুল ইসলাম মসজিদের সামনে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয় গিয়ে ধানের শীষের সমর্থকদের হুমকী ও ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করে দেয়। এছাড়াও রাত ২টার দিকে ২৫ নং ওয়ার্ডে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মোটরসাইকলে নিয়ে গিয়ে ওয়ার্ড নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর এবং ১১, ১২ ও ১৩ নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের নারী কর্মীদের ভিডিও চিত্র ধারণ ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করেন বিএনপির প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তোফাজ্জাল হোসেন তপু।

Leave a Response