Monday, November 30, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

আলোচনায় রাবির দূর্নীতি || স্বেচ্ছাচারী নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ

39views

আলোচনায় রাবির দূর্নীতি
স্বেচ্ছাচারী নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ

রাজশাহী সংবাদ ডেস্ক: রাবি উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারী নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ আবেদনের যোগ্যতাই নেই, তবু মেয়ে ও জামাতাকে নিয়োগ দিতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের নীতিমালাই বদলে দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান। শুধু এই নিয়োগ নয়, নিয়মের পরোয়ানা করে অথবা বিধিমালা শিথিল করে অন্তত ৩৪ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার সময়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো বেশকিছু পদেও হয়েছে সীমাহীন দুর্নীতি। এসব দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে আব্দুস সোবহানের সময়ের স্বেচ্ছাচারী সব নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। খবর: নিউজ বাংলা

গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ইউজিসি। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপাচার্য ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ওঠা ২৫টি অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগেরই প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল সবার সম্পদের উৎস গোয়েন্দাদের মাধ্যমে অনুসন্ধানের সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

উপাচার্য আব্দুস সোবহান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ খুলে সেখানে মেয়েকে ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে (আইবিএ) জামাতাকে নিয়োগের জন্য নীতিমালা পুরোপুরি বদলে দেন।

আগের নীতিমালায় শিক্ষক পদে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল সনাতন পদ্ধতিতে এসএসসি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত চারটি স্তরেই প্রথম শ্রেণি অথবা গ্রেড পদ্ধতিতে এসএসসি ও এইচএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ ৪.৫০, স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরে ন্যূনতম সিজিপিএ-৩.৫০।

এ ছাড়া আবেদনকারীকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মেধাক্রমে প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে থাকতে হবে। তবে এই নীতিমালা পরিবর্তন করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ মোটা দাগে ৩.২৫-এ নামিয়ে আনা হয় এবং মেধাক্রমে থাকার শর্তও তুলে দেয়া হয়।

এর পর উপাচার্যের মেয়ে সানজানা সোবহান এবং জামাতা এ টি এম শাহেদ পারভেজ শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। অথচ বিভাগে উপাচার্যকন্যার মেধাক্রম ছিল ২১তম, আর জামাতার এমবিএ পরীক্ষায় মেধাক্রম ছিল ৬৭তম এবং তার ফল ছিল সিজিপিএ ৩.৪৭।

নতুন প্রতিষ্ঠিত ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে সাধারণত প্রথমে টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয় থেকে পাস করা প্রার্থী নেওয়ার কথা। কিন্তু তা না করে মার্কেটিং ও ব্যবস্থাপনার শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষক পদে আবেদনের সুযোগ রেখে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর মাধ্যমেই নিয়োগ পান উপাচার্যের মেয়ে। এছাড়া আবেদনের যোগ্যতা না থাকা ৩৪ জনকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

তদন্ত কমিটি বলেছে, নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশে চলা চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা এখন সর্বনিম্ন।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সব অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলেছে।

কমিটির প্রতিবেদনে যুক্ত করা তিন পৃষ্ঠার সুপারিশে উপাচার্য, উপউপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ছাড়াও অধ্যাপক মজিবুর রহমান, আব্দুল হান্নান, সহযোগী অধ্যাপক গাজী তৌহিদুর রহমান, শিবলী ইসলাম ও সাখাওয়াত হোসেন টুটলের সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার তদন্ত কমিটিকে অসহযোগিতা করায় তাকে অপসারণসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে ইউজিসি। অনিয়মের জন্য উপাচার্যকে দায়ী করে ইউজিসি বলেছে, ‘এ ধরনের কর্মকান্ড উপাচার্যের মতো সর্বোচ্চ মর্যাদাশীল পদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করেছে। তাই কমিটি মনে করে যে, নৈতিকতা বিবর্জিত এ ধরনের কর্মকান্ড জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাসহ সার্বিক পরিবেশের উন্নয়নে সচেষ্ট হবে।’

Leave a Response