Friday, October 23, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

আলু এখনো ৪২-৪৫ || দাম নিয়ন্ত্রণে হিমাগারে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর

41views

আলু এখনো ৪২-৪৫
সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি না হলেও একদিনে
রাজশাহীতে কেজিতে দাম কমেছে ৫-৭ টাকা
দাম নিয়ন্ত্রণে হিমাগারে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বুধবার আলুর সর্বোচ্চ দাম নির্ধারন করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে এ দাম কার্যকর হয়নি। অবশ্য, আগের দিনের তুলনায় সবখানেই দাম কিছুটা কমেছে। সর্বোচ্চ ৩০ টাকা কেজি দাম নির্ধারিত হলেও রাজশাহীতে বৃহস্পতিবার প্রতিকেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকার উপরে। রাজশাহীর সবগুলো বাজারেই এ দামে বিক্রি হয়েছে। তবে, আগের দিনের তুলনায় রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজারে ভোক্তা পর্যায়ে আলু বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে।

বাজারের দুটি পাইকারী বিক্রেতার দৈনিক মূল্য তালিকায় কেজি প্রতি পাইকারী দর লেখা রয়েছে ৩২ থেকে৩৮ টাকা। বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তাদের ৩৮ টাকা দরেই আলু কিনতে হয়েছে। মাস্টারপাড়া বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো.সনী বলেন, ৩৭ টাকা থেকে ৩৮ টাকা দরে পাইকারী কিনে তারা আলুর রকমভেদে ৪২ টাকা থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। সাহেব বাজার কাঁচবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ফাইজুল উদ্দিন বলেন, আলুর দাম বেশি দেখে তিনি আলু কিনতে পারেননি। আগের দিনের কেনা কিছু ছিল সেগুলোই তিনি ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। খুচরা ব্যবসায়ী ফরিদ উদ্দিন (৩০) বলেন, তাকে পাইকারী ৩৮ টাকা কেজি দরে আলু কিনতে হয়েছে। তিনি ৪২ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

এদিকে, পাইকারী বিক্রেতাদের হিমাগার থেকে বেশি দামে আলু কিনতে হচ্ছে এমন খবর শুনে রাজশাহী বিভাগীয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ পবা উপজেলার দুটি হিমাগার পরিদর্শনে যান। সেখানে তাকে ব্যবসায়ীরা ঘিরে ধরেন। ব্যবসায়ীরা তাকে বলেন, তারা সারা বছর লোকসান গুনেছেন। এখন তারা দাম পাচ্ছেন। তারা কম দামে বিক্রি করবেন কেন?

সহকারী পরিচালক তাদের আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাহগার পর্যায় পর্যন্ত খরচের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে এক কেজি আলু কেনা, তার সঙ্গে হিমাগার ভাড়া, বাছাই খরচ, ওজনের খাটতি মূল্য, মূলধনের সুদ ও অন্যান্য খরচ সহ মোট ২১ টাকা খরচ পড়ে। তারা পাইকারী বিক্রেতাদের কাছে ২৩ টাকা বিক্রি করবে। পাইকারী বিক্রেতারা ২৫ টাকা এবং ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতারা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করবেন। এতে কোনো পর্যায়ে কারও লোকসানের কোনো আশঙ্কা নেই। হাসান আল মারুফ বলেন, আলু সংরক্ষণের সুব্যবস্থা রয়েছে। দেশে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত ৩১ দশমিক ৯১ মে. টন আলু উদ্বৃত্ত রয়েছে। আলু সংকটের কোনো কারণ নেই। তিনি ঘোষণা দেন সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে রাজশাহী জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, বাজারে দাম কমেনি তা ঠিক নয়। গত দিনের থেকে ৫/৭ টাকা দাম কমেছে। তবে নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। গতকাল জেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হয়েছে। এরপরও আজ পাইকারি দাম ৪০ টাকা পর্যন্ত করে রাখা হয়েছে। এজন্য অনেকেই আজ আলু বিক্রিও করেন নি। তবে আমরা তাদের সচেতন করেছি। ব্যবসায়ীরা আগামী দুই তিন দিন সময় চেয়েছেন। আগের কেনা আলুগুলো এই দুই তিন দিনে শেষ হয়ে যাবে। এরপর আগামী রোববার থেকে নির্ধারিত দামে বিক্রি না হলে তখন আমার অভিযানে যাবো।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, নির্বারিত দামের উপরে কোথাও বিক্রি হলে, আমার নজরে আসলে সেখানে অভিযান চালানো হবে।

Leave a Response