Wednesday, October 21, 2020
খেলার মাঠেটপ নিউজ

আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচে উড়ন্ত-উন্মত্ত-অসুস্থ ম্যারাডোনা!

211views

আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচে উড়ন্ত-উন্মত্ত-অসুস্থ ম্যারাডোনা!

রাজশাহী সংবাদ ডেস্ক: ফুটবলের মতো পাগলামিটাও যেন তাঁর রক্তে আছে। বর্ণিল ফুটবল ক্যারিয়ারে মাঠে অসাধারণ শৈল্পিক নৈপুণ্য দেখিয়ে যেভাবে অগণিত মানুষের মন জয় করেছেন, তেমনি চক্ষুশূল হয়েছেন প্রথাগত রীতিনীতির অনুসারীদের। বিতর্ক আর কেলেঙ্কারিও হাত ধরাধরি করে হেঁটেছে তাঁর সাফল্যমণ্ডিত ফুটবল ক্যারিয়ারের সঙ্গে।

ম্যারাডোনা মানেই যেন তা-ই বিশেষ কিছু। ম্যারাডোনা মানেই উন্মাদনা। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে মেসি-ডি মারিয়াদের দিকে যতটা নজর ছিল, গ্যালারিতে বসে তার চেয়েও হয়তো বেশি সাড়া জাগিয়েছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। তাঁর উড়ন্ত-প্রার্থনারত ভঙ্গি, উচ্ছ্বাস, হতাশা থেকে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল যে, কতটা প্রাণ দিয়ে তিনি ভালোবাসেন এই আকাশি-সাদা জার্সিধারীদের।

১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার হাত ধরেই শেষ বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলেছিল আর্জেন্টিনা। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ড্রাগ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি। তার পর থেকে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা বরাবর অন্য তারকাদের মধ্যে খুঁজেছে ম্যারাডোনার ছায়া। কিন্তু বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে ম্যারাডোনার সেই মুহূর্তগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি কেউই।

২০১৪ সালে লিওনেল মেসির কাঁধে সওয়ার হয়ে আর্জেন্টিনা চলে গিয়েছিল ফাইনাল পর্যন্ত। কিন্তু সেখানেও শেষমেশ হতাশই হতে হয় জার্মানির কাছে হেরে। আর এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপে তো গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ার শঙ্কা জেগেছিল আর্জেন্টিনা শিবিরে। তবে বাঁচা-মরার শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। রক্তে যার ফুটবল মিশে আছে, সেই ম্যারাডোনা নিজের দলের এমন দারুণ জয়ে উদযাপন করবেন না, তাই কি হয়? খেলা শেষে উদযাপন করতে গিয়ে উত্তেজনায় অসুস্থও হয়ে পড়েন এই জীবন্ত কিংবদন্তি।

আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্বকাপের আগে থেকেই শঙ্কিত ছিলেন ম্যারাডোনা। প্রথম দুই ম্যাচের বাজে ফলাফলের পর তিনি কোচ হোর্হে সাম্পাওলি, এমনকি আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিও তাপিয়ার সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। দলকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করারও মনস্থির করেন।

দলের এমন বিপর্যয়ের সময়ে ত্রাতার ভূমিকা পালন করেন মেসি। প্রথমার্ধেই গোল করে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেন। যদিও নাইজেরিয়াও সমানতালে খেলতে থাকে। তবে শেষ হাসি হাসে ম্যারাডোনার উত্তরসূরিরাই। ২-১ গোলের ব্যবধানে দলের জয়ের পর রক্তচাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন এই ৫৭ বছর বয়সী তারকা। তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ার কারণে প্যারামেডিক্সের সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। যদিও চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হন এই তারকা এবং নিজেই মাঠ ছেড়ে বের হয়ে যান। তবে আর্জেন্টিনার স্পোর্টসভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন জানিয়েছে, ম্যারাডোনাকে অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালেও যেতে হয়েছিল।

Leave a Response