Thursday, October 22, 2020
খেলার মাঠে

আবারো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

192views

আবারো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

স্পোর্টস ডেস্ক: আত্মঘাতী গোল, ভিডিও রিপ্লে দেখে দেয়া পেনাল্টিতে গোল, গোলরক্ষকের মারাত্মক ভুলে গোল, আর দর্শনীয় সব গোল- রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখল রোমাঞ্চকর এক লড়াই। যাতে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতল ফ্রান্স। হৃদয় ভাঙল প্রথম শিরোপার স্বপ্ন দেখা ক্রোয়েশিয়ার। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে রোববার রাতে ৪-২ গোলে জিতেছে দিদিয়ের দেশমের দল।

মারিও মানজুকিচের আত্মঘাতী গোলে ফ্রান্স এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা ফিরিয়েছিলেন ইভান পেরিসিচ। প্রথমার্ধেই পেনাল্টি থেকে ফ্রান্সকে আবার এগিয়ে দেন অঁতোয়ান গ্রিজমান। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ দুই গোলে ব্যবধান বাড়ান পল পগবা ও কিলিয়ান এমবাপে। গোলরক্ষক উগো লরিসের মারাত্মক ভুলে বল জালে পাঠিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে আশা দেখিয়েছিলেন মানজুকিচ। তবে আগের তিন ম্যাচের মতো শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ক্রোয়াটরা। শুরু থেকে বল দখলে রেখে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে ভালো কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। খেলার ধারার বিপরীতে ফ্রান্স এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ১৮তম মিনিটে ডি-বক্সের অনেক বাইরে থেকে অঁতোয়ান গ্রিজমানের ফ্রি-কিক হেডে বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন সেমি-ফাইনালের জয়সূচক গোলদাতা মানজুকিচ। বল তার মাথায় ছোঁয়া লেগে জালে ঢোকায় কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফাইনালে এটাই প্রথম আত্মঘাতী গোল। নক-আউট পর্বের তিনটি ম্যাচেই আগে গোল খেয়ে ম্যাচে ফিরেছিল ক্রোয়াটরা। এবারও ফিরতে দেরি হয়নি। ২৮তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন পেরিসিচ। ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সে আসা বল জটলা থেকে দোমাগোই ভিদা কাটব্যাক করেছিলেন। ডান পা দিয়ে বল আয়ত্তে নিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে লরিসকে ফাঁকি দেন সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সমতা ফেরানো পেরিসিচ। টুর্নামেন্টে এটি এই মিডফিল্ডারের তৃতীয় গোল। দশ মিনিট পর আবার এগিয়ে যায় ফ্রান্স পেনাল্টি থেকে। কর্নার থেকে ডি-বক্সে আসা বলে লেগেছিল পেরিসিচের হাতের ছোঁয়া। রেফারি মাঠের বাইরে গিয়ে ভিডিও রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত দেন স্পট-কিকের। ঠান্ডা মাথায় টুর্নামেন্টে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন গ্রিজমান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার সমতা ফিরতে পারতো। ইভান রাকিতিচের বাড়ানো বল ধরে আন্তে রেবিচের শট দুর্দান্তভাবে ঠেকান উগো লরিস। ৫২তম মিনিটে ম্যাচে প্রথমবারের মতো জ্বলে উঠেন কিলিয়ান এমবাপে। পাল্টা আক্রমণে পল পগবার বাড়ানো বল ধরে দুর্দান্ত গতিতে ভিদাকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে শট নিয়েছিলেন পিএসজির এই ফরোয়ার্ড। পা দিয়ে ঠেকান সুবাসিচ। দ্বিতীয়ার্ধেও অনেকটা খেলার ধারার বিপরীতে গোল পেয়ে যায় ফরাসিরা। ৫৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে ডি-বক্সে এমবাপের বাড়ানো ক্রস ধরে গ্রিজমান বল পাঠান পেছনে থাকা পল পগবাকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডারের ডান পায়ের প্রথম শট ফেরে রক্ষণে। ফিরতি বলে বাঁ পায়ের শট যায় জালে। ছয় মিনিট পর দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান আরও বাড়ান এমবাপে। বাঁ দিক থেকে লুকা এরনঁদেজের পাসে প্রায় ২২ গজ দূর থেকে নিচু শটে করেন টুর্নামেন্টে তার চতুর্থ গোল। পেলের পর প্রথম টিনএজার হিসেবে ফাইনালে গোল পেলেন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এরপরই গোলরক্ষক উগো লরিসের মারাত্মক ভুল। ব্যাকপাসে বল পেয়ে অযথা এগিয়ে আসা মানজুকিচকে কাটাতে চেয়েছিলেন। পারেননি, মানজুকিচের বুটের টোকায় বল চলে যায় জালে। আশা জাগে ক্রোয়াট শিবিরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ইতিহাস গড়া হয়নি মদ্রিচ-রাকিতিচদের।

Leave a Response