Friday, September 18, 2020
টপ নিউজরাজশাহী

অনলাইনে পণ্য বিক্রি করে লাখপতি মারুফা

15views

অনলাইনে পণ্য বিক্রি করে লাখপতি মারুফা

কামরুজ্জামান, চারঘাট: মারুফা ইয়াসমিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজশাহীর চারঘাটে। তিনি বর্তমানে ইউসুফপুর কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজীর শিক্ষিকা। সংসার জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জননী। ছোট বেলা থেকেই আত্ববিশ্বাসী মারুফার সপ্ন ছিল দেশের জন্য কিছু করার। ২০০৬ সালে সরদহ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে রাজশাহীর একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। পড়াশোনা শেষের পরে চারঘাটের ইউসুফপুর কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজীর শিক্ষিকা হিসাবে যোগদান করেন।

করোনাকালীন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়িতেই অবসর ছিলেন। হঠাৎ বন্ধুদের মাধ্যমে যুক্ত হোন দেশি পণ্যের নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) তে। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল উদ্যোক্তা হবার। উইতে এসে সেই অনুপ্রেরণা আরও জাগ্রত হয়েছে। দেশি পন্যের বিস্তারে কাজ শুরু করেন তিনি। উদ্যোক্তা হিসাবে কাজ করার লক্ষ্যে এপ্রিলে দেশীয় পণ্য আম, গুঁড়া মসলা, খাঁটি সরিষার তেল, প্রাকৃতিক মধু, খাঁটি ঘি নিয়ে শুরু ই-কমার্স উদ্যোগ “জরফরঃধ’ং ভড়ড়ফ মধষষবৎু”। মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে তার ব্যবসার মূলধন লাখ টাকার উপরে।

মারুফার উদ্যোক্তা হয়ে উঠা সম্পর্কে বলেন, সব সময়ই ইচ্ছা ছিলো দেশীয় পণ্য নিয়ে দেশের জন্য কাজ করবো। উই গ্রুপে যোগ দেওয়ার পরে সেখানে অনেক উদ্যোক্তা দেখি। ধীরে ধীরে দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করার চিন্তা জাগ্রত হয়ে উঠে। পরে আমার পরিবারের সবার সবার সাথে বিষয়টা শেয়ার করি। আমার বর আমাকে মানসিকভাবে আশ্বস্ত করেন। পরে সে আমাকে সবরকম ভাবে সহযোগিতাও করে। প্রথমে খাঁটি মধু এবং ডাল নিয়ে কাজ শুরু করি। এরপর মৌসুমি ফল ও বিভিন্ন দেশীয় পণ্য যুক্ত করি। আমার সিগনেচার পন্য স্পেশাল গুঁড়া মসলা। এটি ১৮ ধরনের মসলার সংমিশ্রণ এ তৈরি। এভাবেই আমার শুরু। ই-কমার্স করার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও অফিসের প্রয়োজন নেই। সবদিক থেকেই ই-কমার্স আমার উদ্যোক্তা স্বপ্ন থেকে সত্যিতে পরিণত হয়।

মারুফা বলেন, উদ্যোক্তা জীবন মানেই চ্যালেঞ্জে ভরপুর। আর নারী হলেতো কথাই নেই। কিন্তু আমার বিষয়টা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেননা আমাকে পরিবার থেকে সাপোর্ট দিয়েছে। তেমন কোনো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়নি। এসব ক্ষেত্রে বেশি সাপোর্ট পেয়েছি আমার বরের কাছে থেকে। উইমেন এন্ড ই-কমার্স (উই) গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার নিশা এবং উপদেষ্টা রাজীব আহমেদ ভাইয়ের পরামর্শ ছাড়া কখনই উদ্যোক্তা হতে পারতাম না। আমার সপ্ন পুরণের জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

উই নিয়ে মারুফা ইয়াসমিন বলেন, উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) দেশি পণ্যের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম। আমরা যারা দেশি পণ্য নিয়ে কাজ করি তাদের জন্য উই ফেসবুক গ্রুপ একটা আত্মবিশ্বাসের জায়গা। উইতে এসে মাত্র পাঁচ মাসে যে নাম ও সম্মান পেয়েছি তা আমাকে অনেক এগিয়ে নিয়েছে। ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, “Ridita’s food gallery” নিয়ে আমার একটা লক্ষ্য আছে। আরো বড় কিছু করার চিন্তা আছে। তবে সেটা আরো সময় লাগবে। মূল কথা হলো, রাজশাহীর দেশীয় পণ্য বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দিতে চাই। লাখপতি হওয়ার বিষয়ে মারুফা জানান, সত্যিই লাখপতি হবো এমন আশায় এটা শুরু করিনি। উই গ্রুপ আর আমার বন্ধুদের সাহায্য ও আমার পরিবারের সাহায্যে এতটুকু এসেছি। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ টাকার পণ্য বিক্রয় করেছি। তাদের ধন্যবাদ জানাই। এছাড়াও যারা বেকার, তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহবান জানাই।

Leave a Response